ঢাকা | ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রায়েরবাগে মাদ্রাসাছাত্রের রহস্যজনক মৃ'ত্যু

Modern Television
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 3, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবি | শাহজালাল ফারুক ছবির ক্যাপশন: ছবি | শাহজালাল ফারুক
ad728
নাঈম নামে ১২ বছরের ১ মিশুর মরদেহ উদ্ধার, মারধরের অভিযোগ; দুই শিক্ষক থানায়,উত্তেজিত এলাকাবাসী’


মোঃ শাহজালাল (ফারুক) | 
রাজধানীর রায়েরবাগে রওজাতুল উলুম হাফিজিয়া নুরানি মাদ্রাসায় ১২ বছর বয়সী নাঈম নামে নামে এক ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।মাদ্রাসা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে অতীতে মারধরের অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদ্রাসার দুই শিক্ষককে থানায় নেওয়া হয়েছে।


মাদ্রাসায় তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।খবর পেয়ে কদমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।পরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।


নাইমের বাবার অভিযোগ এর আগেও তাঁর ছেলেকে একাধিকবার মারধর করা হয়েছে। এক পর্যায়ে মারধরের কারণে নাইমের একটি হাত ভেঙে যায় বলেও তিনি দাবি করেন।ছেলের মৃত্যুর পেছনে কোনো ধরনের নির্যাতন বা অনিয়ম ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে,একই সঙ্গে দায়ী ব্যাক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।


নিহত মাদ্রাসা ছাত্র নাঈমের চাচা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তাকে মাদ্রাসার ভেতরে নিয়ে একটি খাতায় স্বাক্ষর করতে বলা হয়।এমনকি তিনি নিজে প্রত্যক্ষ করেননি এমন একটি বক্তব্যের সাক্ষী হতেও তাকে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।


এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কোনো ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী না হয়েও তার কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্যে সাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা কেন করা হলো, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা উচিত।
উত্তেজিত এলাকাবাসী, অভিযুক্তদের হস্তান্তরের দাবি, নাইমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রায়েরবাগ এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


এদিকে ঘটনার পর মাদ্রাসার দুই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কদমতলী থানা পুলিশ। তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ এখনো প্রমাণিত হয়নি।
ময়নাতদন্তেই মিলবে মৃত্যুর আসল কারণ? পুলিশ বলছে, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, নাইমের মৃত্যু কি স্বাভাবিক, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো নির্যাতন, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো ঘটনা? পরিবারের পক্ষ থেকে ওঠা পূর্বের মারধরের অভিযোগ এবং মৃত্যুর পরিস্থিতি, দুই বিষয়ই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত শেষ হলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শিশুটির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রায়েরবাগে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নাইমের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা হোক এবং দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : Modern Television

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ