ঢাকা | ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ছেলেকে বিদায় দিতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল মায়ের, থমকে গেল প্রবাসযাত্রা

Modern Television
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 15, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত
ad728
ছেলেকে সৌদি আরব পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে বিমান ধরিয়ে দিতে পরিবারের সঙ্গে ঢাকার পথে রওনা হয়েছিলেন মা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি। মাকে হারিয়ে থমকে গেছে পুরো পরিবার, অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ছেলের বিদেশযাত্রাও।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাকুন্দিয়া উপজেলার পুলেরঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জয়বাহার (৪৫) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্বগ্রাম শান্তিপুর গ্রামের রাশিদ মিয়ার স্ত্রী।

পরিবার ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ছেলে নিরবকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন জয়বাহারসহ পরিবারের সদস্যরা। পুলেরঘাট এলাকায় পৌঁছালে তাঁদের বহনকারী গাড়ির সঙ্গে একটি পণ্যবাহী লরির সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে জয়বাহার ও তাঁর ছেলে নিরবসহ কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জয়বাহারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। তবে ঢাকার পথে নরসিংদীর ইটেরখোলা এলাকায় পৌঁছানোর আগেই গাড়ির ভেতর তাঁর মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনায় আহত নিরব অভিযোগ করেন, কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যথাসময়ে পাননি। তাঁর দাবি, দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া গেলে হয়তো তাঁর মাকে বাঁচানো সম্ভব হতে পারত।

নিহতের ভাতিজা আল আমিন জানান, আগামী শুক্রবার নিরবের সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল। ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে পরিবারের আর্থিক সংকট কাটানোর স্বপ্ন দেখছিলেন রাশিদ মিয়া ও জয়বাহার। কিন্তু দুর্ঘটনায় জয়বাহারের মৃত্যুতে সেই স্বপ্ন এখন বড় অনিশ্চয়তার মুখে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রাশিদ মিয়া ও জয়বাহারের তিন মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলের বিদেশযাত্রার খরচ জোগাড় করতে ঋণ করেছিলেন রাশিদ মিয়া।

স্ত্রীর মৃত্যুর পর শোকে ভেঙে পড়েছেন রাশিদ মিয়া। আহাজারি করতে করতে তিনি বলেন, ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ঋণ করে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার আগেই স্ত্রীকে হারিয়ে তাঁর জীবনের সবকিছু যেন শেষ হয়ে গেছে।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর জড়িত লরিটি শনাক্তে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। কটিয়াদী হাইওয়ে থানার এসআই মোহাম্মদ নবীনুর রহমান জানান, পণ্যবাহী লরিটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

নিহতের স্বজনেরা দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : Modern Television

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ