ঢাকা | ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অপ্রতিম হত্যা: ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে বিরোধের তথ্য

Modern Television
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 21, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত
ad728
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন কিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তদন্তে আইফোন এবং ৫ হাজার টাকা ধার দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ঘটনায় তুহিন নামের এক তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার মুঠোফোনে আসা কয়েকটি কলের সূত্র ধরে আরও দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শুরুতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন তুহিন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি। তাদের নাম না জানানোর বিষয়ে তিনি আগে থেকেই ‘ওয়াদাবদ্ধ’ ছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানান।

তদন্তকারীরা জানান, শনিবার সকাল ৯টার দিকে তুহিনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তখনও অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর পুলিশের কাছে পৌঁছায়নি। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন তারা।

তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল আসে। তদন্তকারীদের নজরে আসে, কলদাতা অপ্রতিমের বাবার মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইয়েসটেকে কর্মরত এক কিশোর। পরে ওই কিশোরকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ। তাকে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা একটি টি-শার্ট পরা অবস্থায় পাওয়া যায়।

পরে তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন এবং ৫ হাজার টাকা ধার দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের প্রতিষ্ঠানে ওই কিশোর কাজ করত। তদন্তে জানা গেছে, অপ্রতিম তাকে ৫ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে ওই কিশোরের মধ্যে অপ্রতিমের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এমনকি অপ্রতিম না থাকলে ধার করা টাকা ফেরত দিতে হবে না—এ ধরনের চিন্তা থেকেও ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ৫ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নয় পুলিশ। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

গত শুক্রবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইসের পাশে দক্ষিণ সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলটি অপ্রতিমের বাসা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং হত্যার পেছনে আইফোন ও টাকা নিয়ে বিরোধের ভূমিকা কতটা—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : Modern Television

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ