মোঃ শাহজালাল (ফারুক) | রাজধানীর কদমতলী থানার মেরাজনগর বি ব্লক এলাকায় নিজের মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বজলুর (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, পরিবারের সদস্যদের ঘুম পাড়ানোর উদ্দেশ্যে হালিমের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানোর পর গভীর রাতে মেয়ের কক্ষে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় মেয়েটি বাধা ও চিৎকার করলে ছুরিকাঘাতে আহত করা হয়। পরে প্রতিবেশীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঘটনার রাতে বজলুর রহমান বাইরে থেকে হালিম কিনে এনে তাতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পরিবারের সদস্যদের খেতে দেন। হালিম খাওয়ার সময় মেয়েটি ও তার মা তিতা স্বাদের কথা জানালে বজলুর বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তা খেতে বলেন।মেয়ে অল্প পরিমাণ খেয়ে ঘুমাতে চলে যায়।পরে তার মা ও আরেক সন্তানও হালিম খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।পরিবারের বড় ছেলে রাতে চায়ের দোকানে থাকায় তিনি ঐ বিষাক্ত হালিম খাওয়া থেকে বেঁচে যান।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ২টার দিকে বজলুর রহমান মেয়ের কক্ষে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন।এ সময় মেয়েকে আদর করার কথা বলে কাছে আসার চেষ্টা করলে সে আপত্তি জানায়। মেয়ে তাকে নিজের বাবা উল্লেখ করে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকতে বলেন।একপর্যায়ে সবাইকে ডেকে দেওয়ার কথা বললে বজলুর সরে গিয়ে বিষয়টি ‘দুষ্টুমি’ বলে এড়িয়ে যান।
তবে দ্বিতীয় বার, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বজলুর রহমান আবার মেয়ের কক্ষে প্রবেশ করেন।এ সময় ছুরি দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করলে মেয়েটি বাধা দিয়ে চিৎকার শুরু করেন এবং একপর্যায়ে মেয়েটি ছুরিকাঘাতে আহত হয়। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে বজলুর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে পরিবার ও স্থানীয়রা জানান।
পরে প্রতিবেশীরা মেয়েটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
মেয়েটির মা অভিযোগ করেন, এর আগেও তার স্বামীর বিরুদ্ধে মেয়ের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে অশান্তি চলছিল। পারিবারিক সম্মানের কথা চিন্তা করে এতদিন বিষয়টি পরিবারের মধ্যেই রাখার চেষ্টা করেছেন তারা। কিন্তু এবার মেয়ের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এক প্রতিবেশী নারী বলেন, “একজন বাবার কাছেই যদি নিজের মেয়ে নিরাপদ না থাকে, তাহলে সে কোথায় নিরাপদ থাকবে?” তিনি জানান, মেয়েটির চিৎকার শুনে তারা বাসায় গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে কদমতলী থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজটি পোস্ট করেছেন :
Modern Television