ঢাকা | ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র : প্রধানমন্ত্রী

Modern Television
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 8, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত
ad728
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি চক্র নানা কৌশলে এ খাতকে অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রের দায়িত্ব পেয়েছে। দুর্বল অর্থনীতি, প্রশাসনের বিভাজন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নানা সংকটের মধ্যেও দেশকে পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অতীত সরকারের সুবিধাভোগীরা এখনো সক্রিয়। আগের সময়ে নেওয়া অপরিকল্পিত বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিকল্পনার নেতিবাচক প্রভাব জ্বালানি খাতেও পড়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে ধীরে ধীরে সংকট কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূলনীতি হচ্ছে—‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’। জনগণকে রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন করতে দেশজুড়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের নেতৃত্বে এসব স্বাস্থ্যকর্মী সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতে কাজ করবেন।

চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে। তাই পেশাজীবীদের রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকা বা রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি না করে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

ড্যাবের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে দ্রুত ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ থেকে ৩৪ বছর করা, অবসরের বয়স ৬১ থেকে ৬৫ বছরে উন্নীত করা, স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকদের বিশেষ ভাতা দেওয়ার বিষয়গুলো সরকার বিবেচনা করবে।

এ ছাড়া বেসরকারি খাতে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও ন্যায্য বেতন কাঠামো তৈরির দাবিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এ খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও জানান, দ্রুত ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু এবং দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের চিকিৎসকদের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক দেশে থেকেই মানসম্মত চিকিৎসা পাবেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : Modern Television

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ