মডার্ন টেলিভিশন ডেস্ক: রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় নিজ বাসা থেকে শাহিদা বেগম (৬৮) নামে এক বৃদ্ধার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, লুটপাটের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে গেছে।
স্বজনদের বরাত দিয়ে মডার্ন টেলিভিশন জানতে পারে, নিহত শাহিদা বেগমের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার এক ছেলে বিল্লাল হোসেন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। রাজধানীর কাজলার ওই ফ্ল্যাটে শাহিদা বেগম পুত্রবধূ শারমিন আক্তার ও দুই নাতনিকে নিয়ে বসবাস করতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সীতলাই এলাকায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শারমিন আক্তার পেশায় একজন দন্ত চিকিৎসক। প্রতিদিনের মতো শনিবার বিকেলে বড় মেয়ে ফারিস্তাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি চেম্বারে যান। দুই বছরের ছোট মেয়ে ফাইজাকে দাদির কাছে রেখে যান। রাত আনুমানিক সোয়া ৯টার দিকে বাসায় ফিরে তিনি দেখতে পান, ফ্ল্যাটের প্রধান দরজা বাইরে থেকে আটকানো। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই রক্তাক্ত অবস্থায় শাশুড়িকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পাশের একটি কক্ষে দুই বছরের শিশুটি কান্নাকাটি করছিল। তবে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
পরিবারের দাবি, বাসার আলমারি ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি শাবল ও ভাঙা কাঁচি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো দুর্বৃত্তরাই সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল। বাসা থেকে স্বর্ণের চেইন, আংটি, কানের দুল এবং প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খোয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
পুলিশ জানায়, বহুতল ভবনটির নির্মাণকাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। যদিও কয়েকটি ফ্ল্যাটে বাসিন্দারা বসবাস শুরু করেছেন, ভবনের একটি ফ্ল্যাটে এখনও নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শাহিদা বেগমের গলার ডান পাশে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার পর ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে লুটপাট চালানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ভবনটিতে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় আশপাশের ভবনের ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
নিউজটি পোস্ট করেছেন :
Deleted