ঢাকা | ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১০ মাসে রাকসুর ৪২ কর্মসূচি, ভাউচার ছাড়াই ৬২ লাখ টাকার হিসাব

Modern Television
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 21, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত
ad728
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর ১০ মাসে ৪২টি কর্মসূচিতে ব্যয় করেছে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা। তবে এর মধ্যে প্রায় ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার ব্যয় এখনো বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়নি।

সম্প্রতি রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের নথি পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে। নথি অনুযায়ী, ৪২টি কর্মসূচির মধ্যে তিনটি এখনো চলমান; বাকি কর্মসূচিগুলো শেষ হয়ে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু বড় অঙ্কের অর্থের ক্ষেত্রে এখনো হিসাব জমা না পড়ায় আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জিএসের ১৮ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ের ভাউচার নেই

রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার সাত ধাপে মোট ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ব্যয়ের ভাউচার এখনো জমা পড়েনি।

জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের দাবি, ভর্তি পরীক্ষার বুথ স্থাপনে প্রাথমিকভাবে ৩ লাখ ২ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। পরে ব্যয়ের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত করার বিষয়টি সামনে আসায় হিসাব সমন্বয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া ছাত্র সংসদের সদস্যদের জন্য নেওয়া ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকার মধ্যে বিজ্ঞান সম্পাদকের হিসাব না পাওয়ায় ওই বিলও জমা দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

১৩ লাখের বেশি টাকা নিয়েও ভিপির হিসাব মাত্র ১ লাখের

রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ছয় ধাপে ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৩২৪ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকার ব্যয়ের হিসাব জমা পড়েনি।

নথি অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল তিনি দাপ্তরিক ব্যয়ের জন্য দেড় লাখ টাকা নেন। ওই অর্থের হিসাব জমা দেওয়ার আগেই ১৯ জুলাই একই খাতে আরও ২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন।

ভিপির ভাষ্য, সব বিল এখনো জমা না পড়লেও বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে। তার দাবি, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হতে এখনো প্রায় দুই মাস বাকি রয়েছে।

ক্রীড়া সম্পাদকের ১৪ লাখের হিসাবও অনিষ্পন্ন

রাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মোছা. নার্গিস খাতুন সাত ধাপে ১৫ লাখ ৭১ হাজার ৬২৬ টাকা উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ১২৬ টাকার ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি।

সম্পাদক জানান, গত মাসে শুরু হওয়া ‘রাকসু গেমস’-এর ছয়টি কর্মসূচি এখনো চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়া হয়নি।

অন্য সম্পাদকদের ব্যয়ের চিত্র

রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর ছয় ধাপে ৮ লাখ ৪২ হাজার ৭৬৫ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে দুটি কর্মসূচির ভাউচার জমা দিয়েছেন তিনি। তার দাবি, বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচিগুলোর বাজেট তৈরি করতে হওয়ায় কিছু বিল জমা দিতে দেরি হয়েছে।

সংস্কৃতি সম্পাদক জাহিদ হোসেন জোহা তিন ধাপে ৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উদযাপনের জন্য নেওয়া ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ভাউচার নথিতে পাওয়া যায়নি। তবে ওই বিল জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুল সাকিব তিন ধাপে ৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা নিয়েছেন। তার সর্বশেষ কর্মসূচির হিসাব এখনো জমা হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।

মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মুজাহিদ ইসলাম তিন ধাপে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৪৮ টাকা উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে প্রকাশনা খাতে নেওয়া ১ লাখ টাকার ভাউচার জমা পড়েনি।

মহিলাবিষয়ক সম্পাদক সায়িদা হাফসা দুই ধাপে ১ লাখ ৮৮ হাজার ২৭৬ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার হিসাব এখনো জমা হয়নি। তিনি দ্রুত বিল জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তোফা দুই ধাপে ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ৫০০ টাকার হিসাব অনিষ্পন্ন রয়েছে।

পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ কোনো নির্দিষ্ট খাত উল্লেখ না করে ৮২ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। ওই অর্থেরও কোনো হিসাব জমা পড়েনি।

এছাড়া এজিএস এস এম সালমান সাব্বির গত ৫ মার্চ দাপ্তরিক ব্যয়ের জন্য ৬০ হাজার টাকা নেন। সেই অর্থের হিসাবও এখনো জমা হয়নি।

নিয়ম মানার তাগিদ সাবেক নির্বাচন কমিশনারের

রাকসুর সাবেক নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক অর্থ অগ্রিম উত্তোলন করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যয়ের হিসাব সমন্বয় করা নিয়ম। একটি বিলের হিসাব সমন্বয় না করেই পরবর্তী ধাপে অর্থ উত্তোলন করা হলে তা আর্থিক অনিয়মের পর্যায়ে পড়তে পারে।

তার মতে, প্রতিটি সম্পাদকীয় পদের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দ থাকা উচিত এবং সব ব্যয়ের হিসাব রাকসুর সভায় উপস্থাপন করতে হবে। এসব বিষয়ে তদারকি করা কোষাধ্যক্ষের অন্যতম দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভাউচার জমা দেওয়ার আহ্বান

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের ভাউচার জমা দেওয়া উচিত। বিল-ভাউচার নিয়ম অনুযায়ী জমা দেওয়ার জন্য সম্পাদকদের ইতোমধ্যে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে রাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি সভাতেই আর্থিক হিসাবের স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিনিধিদের সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিনিধিরা হিসাব সমন্বয়ের জন্য সময় চেয়েছেন। তবে রাকসুর আর্থিক কার্যক্রম অবশ্যই নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিচালনা করতে হবে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : Modern Television

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ