ঢাকা | ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে হুতিরা ড্রোন ছুড়েছে বলে অভিযোগ সৌদি আরবের, নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

Modern Television
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 16, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত
ad728
পবিত্র মক্কা নগরী লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ড্রোন পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। দেশটির দাবি, ড্রোনটি সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আগেই শনাক্ত হয় এবং মক্কার সংরক্ষিত আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটি ধ্বংস করা হয়েছে। তবে সৌদির এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হুতিরা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, শত্রুপক্ষের একটি ড্রোন শনাক্ত করার পর সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী সেটিকে ভূপাতিত করে।

তার ভাষ্য, পবিত্র স্থান ও মুসল্লিদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এ ঘটনার পর মক্কা নগরীতে সাময়িকভাবে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয় তাইফ ও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহর জেদ্দাতেও। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মক্কার সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২০১৭ সালেও হুতিদের বিরুদ্ধে পবিত্র নগরী লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল।

তবে এবারও মক্কা কিংবা অন্য কোনো পবিত্র স্থানকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতি কর্তৃপক্ষ। ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হুতিদের সামরিক সূত্র দাবি করে, মক্কা বা অন্য কোনো পবিত্র স্থানের বিরুদ্ধে ইয়েমেন থেকে হুমকি রয়েছে—এমন তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

এদিকে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে ইয়েমেনের চলমান সংঘাতের কারণে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ, সোমবার খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় হুতিরা। এতে ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হওয়ার পাশাপাশি সাতটি বাড়ি ও দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সৌদি জোটের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়। পাল্টা জবাবে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী।

সৌদি আরব ও হুতিদের বিরোধের শিকড় ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে। ২০১৫ সালে হুতিরা রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে তাদের সংঘাত তীব্র হয়। পরবর্তী সময়ে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সরাসরি যুক্ত হয় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট।

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে হুতিদের সামরিক অগ্রযাত্রা নতুন করে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা ও বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছে মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুতিদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে গোষ্ঠীটি।

ফলে ইয়েমেনের সংঘাতের পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের সামরিক উত্তেজনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : Modern Television

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ