প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 19, 2026 ইং
ডাকাতির পর অস্ত্রের মুখে ছেলেকে জিম্মি করে মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় তার স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ওই নারীর ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে দুর্বৃত্তরা। অভিযোগ রয়েছে, ধর্ষণের ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে পরে আরও টাকা দাবি এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় রাজিব (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, ঘটনায় আরও চারজন জড়িত। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শরীফ (২৩), আরিফ (২১), ফাহিম (২২), রাজিব (২৩) ও এনামুল (২২) ওই বাড়িতে গিয়ে পানি চায়। গৃহবধূর ১৪ বছর বয়সী ছেলে পানি দিতে দরজার কাছে এলে তাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করা হয়। পরে তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে ওই নারীকেও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা।
এরপর তারা আলমারি ভেঙে নগদ প্রায় ৫ লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ডাকাতির পর ওই নারীকে তার ছেলের সামনে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এ সময় রাজিব মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা তিন দিনের মধ্যে আরও ২ লাখ টাকা দেওয়ার দাবি জানায়। একই সঙ্গে বিষয়টি কাউকে জানালে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু করেন।
শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের নির্জন এলাকা থেকে রাজিবকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্য চারজন সেখান থেকে পালিয়ে যান। গ্রেপ্তার এড়াতে রাজিব তার মোবাইল ফোন পানিতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ফোনটি উদ্ধার করে।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, রাজিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে ঘটনার ভিডিওসহ মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ মর্ডান মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড | মডার্ন গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান