প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 18, 2026 ইং
কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা, মাঠে পড়ে থাকা মরদেহ খেয়ে ফেলল কুকুর

ভারতের দিল্লিতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে চারজনের বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে তিনজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক। হত্যার পর মরদেহ একটি খোলা মাঠে ফেলে রাখা হয়। কয়েক দিন পর মরদেহ উদ্ধারের সময় তার শরীরের কিছু অংশ কুকুরে খেয়ে ফেলেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর উত্তর-পশ্চিম দিল্লির স্বরূপ নগর এলাকার কুশাক রোডে জয়পাল রানার মাঠের কাছ থেকে কিশোরীর পচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের অবস্থা এতটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে সেটি নারী নাকি পুরুষের, তা প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করাও সম্ভব হয়নি। একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত কিশোরী ও অভিযুক্তরা পূর্বপরিচিত ছিল। ঘটনার সময় তারা একটি টেম্পোতে ছিলেন এবং সেখানে একসঙ্গে মদ্যপান করেন বলে তদন্তে জানা গেছে। পরে কিশোরীকে ধর্ষণ, ছুরিকাঘাতে হত্যা এবং মরদেহ মাঠে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
নিহত কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। পুলিশকে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, কিশোরী প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে কয়েক দিন পর আবার ফিরে আসত।
ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় তদন্তে প্রযুক্তির সহায়তা নেয় পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সড়কের ৫০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। এতে ঘটনার সম্ভাব্য সময়ের কাছাকাছি একটি টেম্পোর চলাচল শনাক্ত করেন তদন্তকারীরা। তবে অন্ধকারের কারণে শুরুতে গাড়িটির নম্বর স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি।
পরে বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ মিলিয়ে টেম্পোটির গতিপথ অনুসরণ করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে টেম্পোটির সন্ধান পায় পুলিশ। চালককে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে আরও তিন কিশোরের নাম উঠে আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্ত শিবম ওরফে সুদামা ওরফে চুচুকে আটক করা হয়েছে। তিনি খাড্ডা কলোনির বাসিন্দা। আটক অন্য তিনজনের বয়স ১৬ ও ১৭ বছর। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরিও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং পকসো আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। কিশোরীকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল, ঘটনায় প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা কী ছিল এবং ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের সঙ্গে তাদের বক্তব্যের মিল রয়েছে কি না—এসব বিষয় নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ মর্ডান মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড | মডার্ন গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান